আয়কর আইন ২০২৩ ও রাজস্ব অধ্যাদেশ সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশের প্রধান কর কাঠামোর মৌলিক ধারা এবং সর্বশেষ প্রশাসনিক সংস্কার অধ্যাদেশের পূর্ণ বিবরণ।

আয়কর আইন ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) এর কাঠামো

কার্যকর: ১ জুলাই ২০২৩ হতে অদ্যাবধি
মোট অধ্যায়
২৫টি
মোট ধারা
৩৪৫টি
তফসিল সংখ্যা
৯টি
রিটার্ন ভিত্তি
স্বনির্ধারণী

আইনের প্রধান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনসমূহ:

১. ইউনিভার্সাল সেলফ অ্যাসেসমেন্ট (ধারা ১৮০):

করদাতার দাখিলকৃত যেকোনো সঠিক রিটার্ন দাখিলের সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বলে গণ্য হয়। কোনো কর অফিসে ফাইল আটকে রাখার অবকাশ নেই।

২. ৭টি সংজ্ঞায়িত আয়ের খাত (ধারা ৩২-৬৯):

পুরনো আইনের জটিল খাতের পরিবর্তে চাকরি, বাড়ি ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা, মূলধনি লাভ, আর্থিক সম্পদ এবং অন্যান্য উৎস নামে ৭টি সুস্পষ্ট ও বোধগম্য খাতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

৩. কর রেয়াতের একক সূত্র (ধারা ৭৮):

করযোগ্য আয়ের ৩% বা অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০% বা সর্বোচ্চ ৭.৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম—সেই পরিমাণ সোজা কর রেয়াত প্রদান।

৪. পিএসআর প্রদর্শন বাধ্যবাধকতা (ধারা ২৬৪):

ব্যাংক ঋণ, ট্রেড লাইসেন্স, পেশাজীবী সনদ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগসহ ৪৬টি সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নং ৫৯)

ঐতিহাসিক সংস্কার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কর নীতি নির্ধারণ এবং কর আদায়/প্রশাসনের কাজকে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিভাগে রূপান্তর করা হয়েছে।

বিভাগ ১: রাজস্ব নীতি বিভাগ (Revenue Policy Division)
  • • সরাসরি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করবে।
  • • গবেষণা, প্রাক-বাজেট আলোচনা ও ট্যাক্স প্রণোদনা পর্যালোচনা করবে।
  • • মাঠপর্যায়ের কর আদায় বা করদাতাকে তলব করার কোনো এখতিয়ার এদের থাকবে না, ফলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দূর হবে।
বিভাগ ২: রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Revenue Administration Division)
  • • ই-রিটার্ন, আধুনিক আইটি অবকাঠামো ও কর রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
  • • কর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল অডিট ও ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করবে।
  • • সাধারণ করদাতাকে হয়রানি মুক্ত রেখে সম্পূর্ণ অনলাইনমুখী নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবে।