বিনিয়োগ কর রেয়াত ও অনুমোদিত খাতের তালিকা: ধারা ৭৮ ও ৩% করছাড়ের সম্পূর্ণ হিসাব
আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৭৮ অনুযায়ী ৩টি সীমার সর্বনিম্ন পরিমাণের ওপর কর রেয়াত হিসাবের গাণিতিক সূত্র, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের নিয়ম।
- অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করের ওপর সরাসরি ৩% থেকে ১৫% পর্যন্ত কর রেয়াত পাওয়া যায়।
- ব্যাংক ডিপিএস-এ বাৎসরিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য।
- জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য।
- জীবন বীমা প্রিমিয়ামে পলিসি মূল্যের সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত রেয়াতযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
১. অনুমোদিত বিনিয়োগের খাত ও সর্বোচ্চ রেয়াতযোগ্য সীমা
আইন অনুযায়ী নিচের খাতগুলোতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যায়:
| বিনিয়োগের অনুমোদিত খাত | সর্বোচ্চ রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ সীমা | প্রয়োজনীয় প্রমাণক নথি |
|---|---|---|
| ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস (DPS) | বার্ষিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা | ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ডিপিএস ডিপোজিট স্টেটমেন্ট |
| জাতীয় সঞ্চয়পত্র ক্রয় (Sanchayapatra) | সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের প্রত্যয়নপত্র বা সনদ |
| জীবন বীমার কিস্তি (Life Insurance) | পলিসির মূল্যের সর্বোচ্চ ১০% | বীমা কোম্পানি কর্তৃক প্রিমিয়াম পরিশোধ রশিদ |
| পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার/মিউচুয়াল ফান্ড | প্রকৃত বিনিয়োগের সমপরিমাণ | বিও হিসাব (BO Account) পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট |
| সরকারি ট্রেজারি বন্ড বা সুকুক বন্ড | প্রকৃত বিনিয়োগ | বন্ড ক্রয়ের কনফার্মেশন স্লিপ |
| জিপিএফ/সিপিএফ ও অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ড | বাৎসরিক প্রকৃত চাঁদা কর্তন | বেতন বিবরণী বা ফান্ড স্টেটমেন্ট |
(সারণীটি ডানে-বামে স্ক্রল করে সম্পূর্ণ তথ্য দেখুন)
২. বিনিয়োগ রেয়াত গণনার ৩টি সীমার গাণিতিক সূত্র (ধারা ৭৮)
ধারা ৭৮ অনুসারে একজন করদাতার যোগ্য বিনিয়োগ (Eligible Investment) নির্ধারিত হয় নিচের ৩টি সীমার মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন (Lowest):
ক) মোট অনুমোদিত প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫% (অথবা ৩% করছাড় ফর্মুলা)।
খ) মোট করযোগ্য আয়ের ৩% (Excluding Special Reduced Rate Income)।
গ) সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা।
এই ৩টির মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন হবে, সেই পরিমাণ সরাসরি প্রদেয় কর থেকে বিয়োগ যাবে।
৩. বাস্তব উদাহরণে বিনিয়োগ রেয়াত পরিগণনা
ধরা যাক, একজন ব্যক্তির মোট করযোগ্য আয় ১০,০০,০০০ টাকা এবং গ্রস প্রদেয় কর ৬০,০০০ টাকা। তিনি বছরে ১,২০,০০০ টাকার ডিপিএস করেছেন।
১. মোট আয়ের ৩% = ৩০,০০০ টাকা।
২. ডিপিএস জমার ১৫% = ১৮,০০০ টাকা।
৩. সর্বোচ্চ সীমা = ১০,০০,০০০ টাকা।
সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১৮,০০০ টাকা। সুতরাং তার নিট প্রদেয় কর হবে = ৬০,০০০ - ১৮,০০০ = ৪২,০০০ টাকা।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর ও আইনি সমাধান (FAQ)
প্রশ্ন: আমার ব্যাংকে ২টি ডিপিএস আছে প্রতিটিতে বছরে ১ লাখ টাকা করে জমা দেই। রেয়াত কত পাব?
উত্তর: আইন অনুযায়ী ডিপিএস খাতে সব ব্যাংক মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য হবে। অবশিষ্ট ৮০,০০০ টাকার ওপর রেয়াত পাওয়া যাবে না।
প্রশ্ন: জমি বা ফ্ল্যাট কিনলে কি বিনিয়োগ রেয়াত পাওয়া যাবে?
উত্তর: না, জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয় ধারা ৭৮-এর অনুমোদিত বিনিয়োগের তালিকায় নেই, তাই এতে কোনো কর রেয়াত পাওয়া যায় না।
উপসংহার ও কর পরামর্শ
নিয়মিত ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র বা অনুমোদিত ফান্ডে বিনিয়োগ করে একদিকে নিজের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় নিশ্চিত করা যায় এবং অন্যদিকে করদায় অনেক কমিয়ে আনা যায়।
এই আর্টিকেলের সমস্ত তথ্য, কর হার, সীমা এবং আইনি ব্যাখ্যা বাংলাদেশ আয়কর আইন ২০২৩, অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রের আলোকে সংকলিত।
আপনার সঠিক আয়কর ও বিনিয়োগ রেয়াত হিসাব করতে চান?
২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ক্যালকুলেটরে এক ক্লিকে সম্পূর্ণ নির্ভুল হিসাব দেখুন।
সম্পর্কিত আর্টিকেল ও প্রামাণ্য গাইড
আয়কর আইন ২০২৩ ও রাজস্ব অধ্যাদেশের আলোকে প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকাসমূহ